
ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়া থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য এবার টাকার নতুন নোট ছাড়বে না ব্যাংকটি। তবে নিজেদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ঠিকই নতুন টাকার নোটের ব্যবস্থা করেছে ব্যাংকটি।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, “ঈদের আগে নতুন টাকা দেওয়া হচ্ছে— এমন কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ঈদের আগে নতুন নোট বিতরণের প্রচলিত রেওয়াজ থেকে সরে আসছে। বরং সারা বছর ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নতুন নোট সরবরাহ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ কোনও উৎসব বা নির্দিষ্ট দিন উপলক্ষে নতুন নোট ছাড়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সারা বছরই নতুন নোট সরবরাহ করা হবে।’’
এর আগে বছরের শুরুতে আরিফ হোসেন খান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দিয়ে নতুন নকশার টাকার নোট এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে বাজারে ছাড়া হতে পারে।
গত বছর রমজানের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ঈদকে সামনে রেখে ১৯ মার্চ থেকে নতুন টাকা বিতরণ করা হবে। আগের নকশার সেই নোটগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সই থাকার কথা ছিল।
পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে নতুন নকশার টাকার নোট এপ্রিলের শেষ দিকে বা মে মাসের শুরুতে বাজারে ছাড়ার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকা নোট ঈদের আগে বাজারে ছাড়া হবে না। সে সময় কোরবানির ঈদের আগে নতুন নকশার নোট ছাড়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত কেন নতুন নোট ছাড়া হয়নি— সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলে তখন গুঞ্জন ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকা নোট নিয়ে আপত্তির কারণেই রমজানের ঈদের আগে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়নি।
এদিকে ব্যাংকে নতুন টাকা না থাকলেও খোলা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। সুযোগ বুঝে কিছু ব্যবসায়ী হাজার টাকার বান্ডেলে বাড়তি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।