
কমল জ্বালানি তেলের দাম || ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শিগগিরই সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম।
সোমবার (০৯ মার্চ) চার বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর তেলের দাম দ্রুত নেমে আসে।
আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথম। এতে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়, এবং নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটও দিনের শুরুতে চাপের মুখে পড়ে।
এরপর সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘প্রায় পুরোপুরি শেষের পথে’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই ইঙ্গিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনে ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠার পর দ্রুত কমে ৯৮.৯৬ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে মার্কিন শেয়ারবাজারও শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরে প্রথমবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ার পরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজন পড়লে আমরা হরমুজ প্রণালী দখল করব। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এর জবাবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, ‘এই অঞ্চল থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে এক লিটার তেলও বহন করতে দেওয়া হবে না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ওপেকভুক্ত দেশগুলো-ইরান, আরব আমিরাত ও কুয়েত-ও তেল উৎপাদন কমিয়েছে। পাশাপাশি, অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় একাধিক হামলার ঘটনা সরবরাহকে আরও অনিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ও আলবোরজ প্রদেশে চারটি তেল সংরক্ষণাগার এবং একটি তেল পরিবহন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘এই খেলা’ চালিয়ে গেলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে, এতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।