
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’-এর তীব্র সমালোচনা করে দেশ দুটিকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাকে কোনোভাবে চ্যালেঞ্জ করা হলে তার ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। কিম ইয়ো জংয়ের মতে, যখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরণের সামরিক মহড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে।
মূলত ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামে পরিচিত এই ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার হাজারো সেনা অংশগ্রহণ করছে। মহড়ার অংশ হিসেবে ‘ওয়ারিয়র শিল্ড’ নামে একটি বিশেষ ফিল্ড ট্রেনিং কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে। এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই তাদের ওপর আক্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সংঘাতের কথা উল্লেখ না করলেও বর্তমান বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, উগ্রবাদী ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে কিমের বোন আরও সতর্ক করেছেন যে, বাহ্যিক হুমকির মুখে দেশটি তার ধ্বংসাত্মক সামরিক শক্তি ক্রমাগত বাড়িয়ে যাবে। শত্রুপক্ষকে তাদের যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভয়াবহতা বারবার প্রমাণ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। উত্তর কোরিয়া প্রায়ই এই ধরণের মহড়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক শক্তির মহড়া বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, এই মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। প্রধানত কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এই কমান্ড পোস্ট মহড়ার লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নতুন কোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা ও সমন্বয় যাচাই করা। তবে উত্তর কোরিয়ার এই নতুন হুঁশিয়ারি উপদ্বীপ অঞ্চলে আবারও উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।