
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় বুধবার ভোরে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার ঘোষণার পরপরই রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো শহর।
এই হামলায় তেহরানের একটি ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান জানিয়েছেন, কেবল আবাসিক এলাকাই নয়, বরং বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হামলার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা হওয়ার পরপরই রেড ক্রিসেন্ট ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
উদ্ধারকারী দলগুলো একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রেড ক্রিসেন্ট প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, হামলার তীব্রতায় আশপাশের সড়কগুলোতে ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক এলাকা ও জরুরি সেবার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, যা শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, যার প্রতিফলন হিসেবে এই রাতভর বিমান হামলাকে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।