
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১১ দিন ধরে ভয়াবহ ফ্লাইট বিপর্যয় চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দরে মোট ৯৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী যাত্রী।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবারও একদিনে চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা আরও তিনটি ফ্লাইট। মূলত দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো এখনো সীমিত পরিসরে সচল থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকায় অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
তবে সংকটের মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি জানান, শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে উড়োজাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গতকাল বিমানবন্দরের কার্যক্রম একেবারে স্থবির ছিল না; বরং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১৩টি ফ্লাইট (৭টি অ্যারাইভাল ও ৬টি ডিপার্চার) সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উন্নত হলে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ শিডিউলে ফিরবে শাহ আমানত বিমানবন্দর। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলো আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হলে প্রবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।