
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ১২তম দিনে গড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ১২তম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১,৩০০-এর বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মেহরাবাদ এয়ারপোর্ট এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দাম বেড়েছে।
ইরানে পরিস্থিতি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমীর সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন আবাসিক ভবন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার অংশ বলে দাবি করেছে ইরান। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৩৭তম দফার হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এতে ‘খোররমশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা এবং জেরুজালেমসহ বিভিন্ন স্থান, পাশাপাশি ইরাকের এরবিল ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেখারচি বলেছেন, আবাসিক এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদ রেজা রাদান সতর্ক করে বলেছেন, যারা দেশের শত্রুদের সমর্থন করবে তাদের আর প্রতিবাদকারী নয়, বরং “শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে তেল ডিপোতে হামলার পর তৈরি হওয়া দূষিত ধোঁয়া ও বৃষ্টির মিশ্রণে “ব্ল্যাক রেইন” বা বিষাক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চল ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি।
অন্যদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, তারা ২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যদিও এর মধ্যে নয়টি তাদের ভূখণ্ডে পড়ে। ড্রোন হামলায় আবুধাবির েএকটি বাণিজ্যিক এলাকায় আগুন লাগে, যেখানে দেশের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার অবস্থিত। নিরাপত্তার কারণে ওই শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিন সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইরানের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যদিও কুয়েত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাত পেয়ে আগুনে পুড়ছে এবং ক্রুরা জাহাজ ছেড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।