
বুধবার স্পিকার আয়াজ সাদিক একগুচ্ছ নতুন ব্যয় সংকোচন নীতি ঘোষণা করেছে
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে সরকারি ব্যয় কমাতে ব্যাপক কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বুধবার স্পিকার আয়াজ সাদিকের নির্দেশে জাতীয় পরিষদ (এনএ) সচিবালয় একগুচ্ছ নতুন ব্যয় সংকোচন নীতি ঘোষণা করেছে। মূলত জনসাধারণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের জন্য জাতীয় পরিষদের সদস্যদের (এমএনএ) বেতন ও ভাতা থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ কর্তন করা হবে। এছাড়া ২০ গ্রেড বা তার ওপরের এবং মাসিক ৩ লাখ রুপির বেশি বেতন পাওয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনো বেতন নেবেন না।
ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে সরকারি যানবাহনের ৭০ শতাংশ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ের ৮০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে ভার্চ্যুয়ালি কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য বাড়তি কোনো ভাতা বরাদ্দ থাকবে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি সংসদ ভবন ও ক্যাফেটেরিয়ার অপ্রয়োজনীয় আলো এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরোনো ধারার খরচ কমাতে পুরো সচিবালয়কে এখন ‘পেপারলেস’ বা কাগজবিহীন পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলো এখন থেকে অনলাইনেই হবে এবং সপ্তাহে মাত্র চার দিন অফিস চলবে। এ ছাড়া সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সব ধরনের বিদেশ সফর সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যেকোনো সভা সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার সরকার ডিজেল ও পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় পেট্রলের দাম বেশি বাড়ানো হয়েছে যাতে সেই অর্থ দিয়ে গণপরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দামে ভর্তুকি দেওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন সরকারি সব দপ্তরের নিয়মিত খরচ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে এবং কর্মকর্তাদের থেকে কেটে নেওয়া বেতন সাধারণ মানুষের ত্রাণের কাজে ব্যবহৃত হবে।