
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকার শীর্ষ ১০
বিশ্বজুড়ে বিলিয়নিয়ার বা অতিধনীদের সংখ্যা ও সম্পদের পরিমাণ এখন ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিস্তার, শেয়ারবাজারের উত্থান ও সহায়ক রাজস্ব নীতির ফলে অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের সদ্য প্রকাশিত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৮ জন শতকোটিপতি।
এবারের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন এবং সব বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ২০ লাখ ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে। দেশওয়ারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৯৮৯ জন শতকোটিপতির বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীন এবং তৃতীয় স্থানে ভারত। এবারের তালিকার শীর্ষ ১০ জনের বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।
ইলন মাস্ক (যুক্তরাষ্ট্র)
বিলিয়নিয়ার তালিকার শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ি ছাড়াও তিনি স্পেসএক্স, সোশ্যাল মিডিয়া এক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। গত বছর টেসলার অতিরিক্ত শেয়ার পাওয়ার ফলে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার সম্পদমূল্য ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে বর্তমানে ৮৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ল্যারি পেইজ (যুক্তরাষ্ট্র)
গুগলের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার বর্তমান সম্পদমূল্য ২৫৭ বিলিয়ন ডলার। গত কয়েক মাসে তার সম্পদ ২৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ইন্টারনেট অর্থনীতির অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত ল্যারি পেইজ বর্তমানে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছেন।
সের্জেই ব্রিন (যুক্তরাষ্ট্র)
সের্জেই ব্রিন গুগলের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে ২৩৭ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। মস্কোয় জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা ল্যারি পেইজের সঙ্গে মিলে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের তৈরি অ্যালগরিদম ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের ধরন বদলে দিয়েছে। গুগল পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত অ্যালফাবেটেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জেফ বেজোস (যুক্তরাষ্ট্র)
অ্যামাজনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ২২৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের এই প্রতিষ্ঠাতার সম্পদমূল্য গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও শীর্ষ পাঁচে তার অবস্থান অটুট রয়েছে। তিনি মনে করেন প্রযুক্তির অগ্রগতি পৃথিবীকে নতুন এক সভ্যতার প্রাচুর্যের যুগে নিয়ে যাচ্ছে।
মার্ক জাকারবার্গ (যুক্তরাষ্ট্র)
মেটা বা ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২২২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও ভার্চ্যুয়াল বাস্তবতা ও মেটাভার্স প্রযুক্তি উন্নয়নে তিনি বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন। তার সম্পদ গত কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার কমেছে।
ল্যারি এলিসন (যুক্তরাষ্ট্র)
ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ১৯০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছেন। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তার সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকল বর্তমানে ডেটাবেজ ও করপোরেট প্রযুক্তি সমাধানে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে। বর্তমানে তিনি কোম্পানির কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ভূমিকা রাখছেন।
বার্নার্ড আর্নল্ট ও পরিবার (ফ্রান্স)
বিলাসদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট ১৭১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে সপ্তম স্থানে আছেন। তার অধীনে লুইস ভিটন, ডিওর ও টিফানি অ্যান্ড কোং-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড রয়েছে। বিলাসপণ্যের বিশ্ববাজারে তার পরিবার একচ্ছত্র নেতৃত্ব দিচ্ছে।
জেনসেন হুয়াং (যুক্তরাষ্ট্র)
তাইওয়ানি বংশোদ্ভূত এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ১৫৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে এনভিডিয়ার জয়জয়কারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সম্পদ ও প্রভাব অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে।
ওয়ারেন বাফেট (যুক্তরাষ্ট্র)
বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট ১৪৯ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে নবম স্থানে আছেন। ‘ওমাহার ভবিষ্যদ্বক্তা’ হিসেবে পরিচিত এই বিনিয়োগ গুরু দীর্ঘদিন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। বর্তমানে পদ থেকে অবসর নিলেও পর্ষদে থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছেন।
আর্মানিকো ওর্তেগা (স্পেন)
স্পেনের ফ্যাশন উদ্যোক্তা এবং ইনডিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা আর্মানিকো ওর্তেগা ১৪৮ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে শীর্ষ দশের তালিকায় রয়েছেন। দ্রুত উৎপাদন ও সরাসরি বিপণন কৌশলের মাধ্যমে তিনি ফ্যাশন রিটেইল খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ধরে রেখেছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায় প্রযুক্তি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণই বর্তমানে বিশ্বে নতুন সম্পদ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ফোর্বসের এই তালিকায় দেখা গেছে এক সময়ের শীর্ষ ধনী বিল গেটস ১৯তম এবং এশিয়ার অন্যতম ধনী মুকেশ আম্বানি ২১তম স্থানে নেমে গেছেন।