
পাঞ্জাব রাজ্য সরকার ও সেখানকার কৃষক সংগঠনগুলো ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার মধ্যেই পাঞ্জাব রাজ্য সরকার ও সেখানকার কৃষক সংগঠনগুলো ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত সপ্তাহে পাঞ্জাব রাজ্যের বিধানসভায় ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের নিন্দা জানানো ভারতের প্রথম ও একমাত্র রাজ্য হিসেবে পাঞ্জাবের নাম উঠে আসে।
রাজ্যের বাজেট অধিবেশনের এক পর্যায়ে বিধানসভার সদস্য সুখবিন্দর কুমার সুখি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বিশেষভাবে একটি স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রায় ১৬৫ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই হামলাকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের বহু চিকিৎসক ও রোগী নিহত হয়েছেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান।
এরপর অধিবেশন পরিচালনাকারী স্পিকার কুলতার সিং সান্ধওয়ান সবাইকে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান।
সুখি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাঞ্জাব থেকে এই বিষয়টি উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি অন্যান্য সরকারকেও সচেতন করতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখনো ইরান যুদ্ধ বা খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মাত্র দুই দিন আগে মোদি ইসরায়েল সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। ইসরায়েলের পার্লামেন্টেও তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়, যেখানে তিনি ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। তবে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের প্রেক্ষাপটে তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ভারতের বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
মোদি সরকারের সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়েছে। পাশাপাশি ভারত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত আইটু-ইউটু জোটেও অংশ নিয়েছে দেশটি।
এদিকে মঙ্গলবার পাঞ্জাবজুড়ে হাজার হাজার কৃষক যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে এবং ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন দাকাউন্দার মহাসচিব জগমোহন সিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি—দুটিই কৃষকবিরোধী।
এর আগে ৭ মার্চ ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’ নামে কৃষক সংগঠনগুলোর জাতীয় জোটও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এক বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে “বিশ্ব শান্তির সবচেয়ে বড় শত্রু” বলে উল্লেখ করে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার মধ্যেও পাঞ্জাবে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ইরান ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও ফিলিস্তিন ও ইরানের সমর্থনে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। এসব বিক্ষোভে ভারতীয় বাহিনী দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।