
তিনি আরও হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা হয়তো মজা করার জন্যও এটাকে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মিত্র দেশগুলোকে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা তাদের অবস্থান আরও জোরদার করবে।
শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি অবকাঠামোর বড় অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে’। তিনি আরও হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা হয়তো মজা করার জন্যও এটাকে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।’
এই মন্তব্য বাস্তবায়িত হলে এটি পরিস্থিতির বড় ধরনের উত্তেজনা বাড়াবে। কারণ এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে আরাঘচি বলেন, ‘এটি একটি অবৈধ যুদ্ধ, যার কোনো বিজয় নেই। মানুষ মারা যাচ্ছে শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মজা করার কারণে। এ কথাটি তিনিই বলেছেন।’
সংযম দেখানোর দাবি
আরাঘচি এর আগে এমএস নাও সংবাদমাধ্যমকে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ এবং দুবাইয়ের খুব কাছাকাছি একটি স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়। তিনি এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ইরান চেষ্টা করবে যাতে ওই এলাকায় কোনো জনবসতিপূর্ণ স্থানে আঘাত না লাগে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে, তবে তারা এখনো যুক্তি ও সংযমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পাল্টা হামলার দাবি ইরানের
রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইসরায়েল এবং অঞ্চলের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের শিল্প এলাকায় নিহত শ্রমিকদের প্রতিশোধ হিসেবে এটিকে প্রথম ধাপের প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করা হয়।
শনিবার ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি শিল্প কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে বাজার ও বিভিন্ন সরকার এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পায়, তাদের এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত, আর আমরা এতে অনেক সাহায্য করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, মসৃণ এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।’
‘অস্তিত্বের লড়াই’ দেখছে ইরান
শেখ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সালমান শেখ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে নৌ জোট গঠনের উদ্যোগে অন্য দেশগুলো সম্ভবত যোগ দেবে না।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘কোনো দেশই এমন পরিস্থিতিতে যেতে চাইবে না যেখানে তাদের জাহাজ ও স্বার্থের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ইরান মনে করে তারা অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে এই সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখতে পারবে, যদিও প্রচলিত সামরিক শক্তিতে তারা কিছু ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শেখের মতে, ‘ইরানি রাষ্ট্র এখন একটি অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে, যা ক্রমেই জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে রূপ নিচ্ছে।’
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই আলোচনায় আগ্রহী নয়, কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।
এর জবাবে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলার কোনো কারণ দেখছি না, কারণ আমরা যখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম তখনই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলার ভালো কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের নেই।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শুরু করা এই যুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরানের নাগরিক।