
ইরান যুদ্ধের ১৭তম দিন: তেহরানে নতুন ইসরায়েলি হামলা, উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর চলমান হামলার ১৭তম দিনে রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার সংঘাতের উত্তেজনা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তেহরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানায়, তেহরানের আকাশে শত্রু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ইরান।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় তাদের একটি ক্লিনিক ও একটি ত্রাণকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
রোববার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান কখনোই যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার অনুরোধ করেনি। তিনি বলেন, আমরা যতদিন প্রয়োজন ততদিন আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়িনি দাবি করেন, তাদের অধিকাংশ অস্ত্রভাণ্ডার এখনো অক্ষত রয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।
সৌদি আরব সোমবার জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তারা ৩৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারও তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ড্রোন কারখানাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলে সোমবার ভোরে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরাক, লেবানন ও জর্ডানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরাকের জুরফ আল-সাখার এলাকায় ইরানপন্থী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) একটি ঘাঁটিতে বিমান হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননেও নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমিত স্থল অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।