
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে গত ২৮ দিনের কার্যক্রমকে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সরকারের গৃহীত ২৮টি বিশেষ পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই উপদেষ্টা জানান, এই পদক্ষেপগুলো কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
মাহদী আমিনের স্ট্যাটাস অনুযায়ী, গত এক মাসে সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তায় এসেছে বড় পরিবর্তন। ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা প্রদান এবং ৫ হাজারেরও বেশি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদে দুস্থদের জন্য বিশেষ উপহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে ২৭ হাজার কৃষককে কার্ড প্রদান এবং ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের কাজ শুরু হয়েছে। সেচ সুবিধা বাড়াতে ৫৪ জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বর্তমানে চলমান।
প্রশাসনিক সংস্কারে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। তিনি শনিবারও অফিস করছেন এবং ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ মানুষের মতো ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলছেন। সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেওয়ার বিশেষ সুবিধা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও এই সময়ে নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় রমজানে মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস মেটাতে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ সহজীকরণে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি মওকুফ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতি বছর পুনর্ভর্তি ফি বাতিল এবং লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণে ই-হেলথ কার্ড এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতে ‘পিংক বাস’ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট এবং হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য উচ্চপর্যায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ২৮ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে। ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে ধারণ করেই সরকার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।