
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া দুই কিশোরকে দেড় মাস পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই পাচারচক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন বড়ইতলী পাহাড়ে এক বিশেষ অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এর চান্দগাঁও থানা। এ সময় দুই কিশোরকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য—সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১)—কে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে সোহান (১৭) এবং তার প্রতিবেশী মো. জনির ছেলে ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬) নিখোঁজ হয়। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পেয়ে পরিবার প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা।
মামলার পর চান্দগাঁও থানার ওসির নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। অভিযানের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মো. আব্দুল কাদের মামুন ও মো. ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থেকে মো. মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মো. মোস্তফাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে।
পুলিশের কৌশলী তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে চক্রটি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অব্যাহত পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পাচারকারীরা জিম্মি থাকা সোহান ও সাগরকে পাচার না করে পাহাড়ের গোপন আস্তানায় লুকিয়ে রাখে।
পরে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটের দিকে টেকনাফের বড়ইতলী পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারচক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা রোহিঙ্গা নাগরিক এবং চক্রটির সহযোগী।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।