
ভবিষ্যতের আধুনিক ক্রিকেটের পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম মানেই এক সময় ছিল ধীরগতির মন্থর উইকেট আর স্পিনারদের দাপট। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্যপট এখন বদলাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে দেখা গেছে এক ভিন্ন মিরপুরকে। ব্যাটসম্যান ও বোলারদের সমান সুযোগ থাকা ‘স্পোর্টিং উইকেটে’ খেলে বাংলাদেশ কেবল সফলই হয়নি বরং ভবিষ্যতের আধুনিক ক্রিকেটের পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে।
সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই সিরিজে পেসারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন ম্যাচে পাকিস্তানের ৩০টি উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান এবং পাকিস্তানের সালমান আগা—উভয়েই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ১০০-এর ওপর স্ট্রাইক রেটে। অথচ সিরিজের আগে রসিকতা করে বলা হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টিতে আড়াই শ রান হলেও মিরপুরের ওয়ানডেতে তা হবে কি না!
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলে দেশের বাইরে বা আইসিসি ইভেন্টে গিয়ে ভুগতে হয় বাংলাদেশ দলকে। সেই বৃত্ত থেকে বেরোতেই এই সাহসী সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “এতে যদি আমরা অভ্যস্ত না হই, চ্যালেঞ্জটা যদি না নিতে চাই, তাহলে আমাদের খেলাটা পরের ধাপে যাবে না। যতই প্রতিভা থাকুক, সাহস না দেখালে উন্নতি সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে মিরপুরে আর আগের সেই মন্থর উইকেট দেখা যাবে না।”
শুধু মূল ম্যাচের উইকেটই নয়, পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে মিরপুরের একাডেমি ও ইনডোর উইকেটেও। জাতীয় দলের পাশাপাশি নারী দল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটাররাও যেন স্পোর্টিং উইকেটে অভ্যস্ত হতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। এর আগে বগুড়া ও রাজশাহীতে বিসিএল ওয়ানডেতেও এমন উইকেটে খেলানো হয়েছে ব্যাটসম্যানদের অভ্যস্ত করতে।
গত বছর টানা চার সিরিজ হারার পর মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এই সিরিজের পর তা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজ অধিনায়ক থাকবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের কণ্ঠে ঝরল আস্থা। মিরাজের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বে বিসিবি খুশি জানিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পারফরম্যান্সের এই ধারা বজায় থাকলে মিরাজের ওপরই দীর্ঘমেয়াদী আস্থা রাখতে চায় বোর্ড।
বাংলাদেশ দলের এই নতুন ঘরানার ক্রিকেট ভক্তদের মনে যেমন রোমাঞ্চ জাগিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় সাফল্যের স্বপ্নও দেখাচ্ছে।