
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে না। দুই দেশেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—ঈদের নামাজ কেবল মসজিদের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে।
আমিরাতের জেনারেল অথরিটি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাত এক ঘোষণায় জানিয়েছে, দেশজুড়ে নির্ধারিত মসজিদগুলোতেই ঈদের নামাজ আদায় করা হবে। ফলে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ বা খোলা মাঠে বড় জামাতের আয়োজন এ বছর থাকছে না। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নির্দেশনা সাতটি আমিরাত জুড়েই কার্যকর থাকবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জামাতগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মসজিদকে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া, মসজিদে আগত মুসল্লিদের জন্য জারি করা সব নির্দেশনা ও গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মুসল্লিদের বিভ্রান্তি এড়াতে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য জানানো হচ্ছে। রাজধানী দুবাইয়ের প্রধান মসজিদগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে নামাজ আদায়ে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
এদিকে, একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। দেশটির ওয়াক্ফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সুস্থতা বিবেচনায় ঈদগাহে বড় জমায়েত না করে মসজিদভিত্তিক নামাজ আয়োজন করা হবে।
এই সিদ্ধান্তে প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছে—কেউ যেন উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাতের জন্য জমায়েত না হন।
রমজান শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদ উদযাপিত হবে, এবং সেই অনুযায়ী নির্ধারিত নির্দেশনার মধ্যেই ধর্মীয় এই উৎসব পালিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: গালফ নিউজ