
সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ আর উৎসবের আমেজে আমাদের সবার ঘরেই থাকে হরেক রকম মজাদার খাবারের আয়োজন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা আর উৎসবের ভিড়ে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যায়।
অতিরিক্ত খাবারের ফলে পেট ফাঁপা, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা বা অ্যাসিডিটির মতো শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলে এই সমস্যাগুলো এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
অতিরিক্ত খাওয়ার পর অনেক সময় আমরা দ্রুত শুয়ে পড়ি, যা মোটেও ঠিক নয়। ভরা পেটে শুয়ে পড়লে অ্যাসিডিটি ও বুকে ব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। তাই খাওয়ার পরপরই বসে না থেকে কিছুক্ষণ হালকা হাঁটাহাঁটি করা উচিত, এতে হজম দ্রুত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করা জরুরি। অনেকে হজমের জন্য কোমল পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস পান করেন, যা আসলে উপকারের চেয়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এ ধরনের পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
সুস্থ থাকতে খাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন আনা জরুরি। খাবার অন্তত ৩০-৪০ বার চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেলে মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত পাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়, যা অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে।
টিভি দেখা বা মোবাইল চালানোর মতো অন্যমনস্ক অবস্থায় খেলে আমরা অজান্তেই বেশি খেয়ে ফেলি, তাই খাওয়ার সময় কেবল খাবারের দিকেই নজর দেওয়া উচিত।
যদি কোনো এক বেলা বেশি ভারি খাবার খাওয়া হয়ে যায়, তবে পরের বেলা অবশ্যই কম ক্যালরিযুক্ত হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার পর যদি প্রচণ্ড বমি ভাব বা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।