
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ১২৫ জন আরোহী নিয়ে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির আমাজন এলাকার পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের এই বিমানটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বিমানে মোট ১১ জন ক্রু এবং ১১৪ জন সেনাসদস্য ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রানওয়ের শেষ প্রান্তে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে বিমানটিতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। বিমানে থাকা বিস্ফোরক সামগ্রীর কারণে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং নিজেদের মোটরসাইকেলে করে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর বড় একটি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। উদ্ধারকাজে ধীরগতির জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মুখে। যারা এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হবেন, তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বিধ্বস্ত বিমানটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা আধুনিক মডেলগুলোর একটি ছিল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বলিভিয়াতেও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। বারবার এমন দুর্ঘটনায় সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।