
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে এই ঘটনা। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধারকাজে নামে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা আক্তার জানান, বাসটি কুষ্টিয়া থেকে রওনা হয়ে পাংশা ও আশপাশের এলাকা থেকে যাত্রী তোলে। ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে মাত্র তিনজন যাত্রী বাইরে অবস্থান করছিলেন, বাকি সবাই বাসের ভেতরেই ছিলেন। উচ্চগতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা নদীতে পড়ে যায় বলে জানান তিনি।
ডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাতজনের মতো যাত্রী সাঁতরে ওপরে উঠতে পেরেছেন। বাকিরা বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ থাকতে পারেন।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে গেছে। ডুবুরি দল খবর পাওয়ার ছয় মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরিচা থেকে আরও একটি দল যোগ দেয়—মোট ১৫–২০ জনের সমন্বয়ে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাসহ ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক ডুবুরিরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ৩ নম্বর পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি সরাসরি নদীর গভীরে পড়ে যায়। অন্ধকার ও তীব্র স্রোতের কারণে এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।