
ইরানের খারগ দ্বীপ
ইরানের দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করা হলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বুধবার (২৬ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের শত্রুরা একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। তবে তিনি ওই দেশের নাম প্রকাশ করেননি।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বাহিনী শত্রুর সব গতিবিধি নজরদারি করছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যে আঞ্চলিক দেশ এই অভিযানে সহায়তা করবে তার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত খারগ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, গালিবাফের মন্তব্যে আঞ্চলিক যে দেশের কথা বলা হয়েছে তা সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানকে পরাজয় মেনে নিতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর হামলা চালাবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা সেখানে পাঠানো হচ্ছে এবং মার্কিন মেরিন বাহিনীর ইউনিট বহনকারী যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কোনো দ্বীপ বা ভূখণ্ডে হামলা হলে তেহরান লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলতে পারে। এতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও ভূমিকা রাখতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, আর ইরানও ৫টি শর্ত দিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।