
মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, এই হামলায় বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিজেদের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাবাহার উপকূলের কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই এফ-১৮ যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র জানান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্যাটেলাইট গ্রহণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আল আজরাক, শায়খ ঈসা, আলি আল সালেম এবং ক্যাম্প আরিফজান-এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বিতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এই অভিযানে ‘এমাদ’, ‘কিয়াম’, ‘খোররামশাহর-৪’ এবং ‘কদর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাইফা, দিমোনা ও হাদেরাসহ ৭০টিরও বেশি স্থানে একযোগে আঘাত হানা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এরবিলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এই দফায় দফায় হামলার ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।