
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর বক্তব্য থেকে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং এতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
উইটকফ জানান, গত শনিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার পর ইরান আলোচনার জন্য যোগাযোগ করে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এবং জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না থাকলে তিনি ইরানের অবকাঠামোর ওপর বোমা হামলা শুরু করবেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে পারে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে।
উইটকফ আরও জানান, ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে রয়েছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। জানা গেছে, এসব শর্তের অনেকটাই এর আগে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায়ও তোলা হয়েছিল।
তবে উইটকফের দাবি, সেই আলোচনার পর মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন যে ইরান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। তার মতে, এ কারণেই ট্রাম্প, তার জাতীয় নিরাপত্তা দল এবং উপদেষ্টারা—যাদের মধ্যে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও উইটকফ নিজেও আছেন—সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযান নির্ধারিত সময়সূচির চেয়েও এগিয়ে চলছে। শুরুতে তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা অচল হয়ে পড়লে ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করা হতে পারে।