
দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথম কোনো নবজাতকের জন্ম
জনসংখ্যা সংকটে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গ্রামে চলতি মাসে দুটি বিরল ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথম কোনো নবজাতকের জন্ম হয়েছে এবং এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
হংসেং কাউন্টি কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, কম্বোডিয়া থেকে আসা অভিবাসী শ্রেদানি এবং তার স্বামী জং হে-দেওক গত ১৯ মার্চ একটি পুত্রসন্তান লাভ করেছেন, যার নাম রাখা হয়েছে ইয়ং-জুন। ইউনহা-মিয়ন গ্রামে গত ১৭ বছরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম কোনো শিশুর জন্ম।
এই খবরে পুরো গ্রামবাসী আনন্দে উদ্বেলিত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন গ্রামজুড়ে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘২০২৬ সালে ইউনহা-মিয়ন গ্রামে আসা এক বিশেষ উপহার। আমরা জং হে-দেওক ও শ্রেদানির পুত্রসন্তান জং ইয়ং-জুনের জন্মকে উদযাপন করছি।’
এছাড়া এই মাসে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে চারজন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর ফলে স্কুলটির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন গ্রামজুড়ে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছে
এই উদযাপন দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক জনসংখ্যা সংকটের ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। গত এক দশক ধরে ইউনহা-মিয়ন গ্রামের জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এখানকার জনসংখ্যা ছিল ২,৬২৮ জন, যা ২০২২ সালে কমে দাঁড়ায় ২,১৯৭ জনে এবং ২০২৩ সালে ২,১৫৩ জনে। ২০২৪ সালে জনসংখ্যা কমে ২,০৫৭ জন হয় এবং গত বছরের জুলাই মাসে তা ২,০০০-এর নিচে নেমে ১৯৯১ জনে দাঁড়ায়।
গত ১৯ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, এই জনপদে ১,১৩৪টি পরিবারে মাত্র ১,৯৫৪ জন বাসিন্দা রয়েছেন। বর্তমানে এটি হংসেং কাউন্টির দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম জনপদ হিসেবে পরিচিত।