
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ২৯তম দিনে পৌঁছেছে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ২৯তম দিনে পৌঁছেছে। সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, আর এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
ইরান পরিস্থিতি
ইসরাইল দাবি করেছে, শনিবার ভোরে তারা তেহরানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
তবে তেহরান জানিয়েছে, আক্রান্ত দুটি পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলার জন্য ইসরাইলকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
এদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে এই সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে বৈঠকের আশা করছেন তারা।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ইরানি মনে করছেন তারা এমন আলোচনায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন যা তাদের জন্য অনুকূল নয়।
কূটনৈতিক অঙ্গন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর সমালোচনা করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি।
তুরস্ক জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও মিশরের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মনে করেন, এই যুদ্ধ ইরানে শাসন পরিবর্তন আনতে পারবে না।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। একইসঙ্গে দেশটিতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
কুয়েতে রাতভর সাইরেন বাজা এখন প্রায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল পরিস্থিতি
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের একটি ব্যস্ত এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলার মুখে রয়েছে।
লেবানন, ইয়েমেন ও পশ্চিম তীর
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
লেবাননে ইসরাইল স্থল অভিযান জোরদার করেছে এবং লিতানি নদী পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ার চেষ্টা করছে। হিজবুল্লাহ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন কিশোর।
জ্বালানি ও খাদ্য সংকট
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
মিশরে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইথিওপিয়ায় জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে মানুষকে।
কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলারের চা আটকে আছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলছে।