
লিবিয়ার বন্দিশালায় মারা যাওয়া মাদারীপুরের দুই যুবক। ছবি: সংগৃহীত
উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিল মাদারীপুরের দুই যুবকের প্রাণ। লিবিয়ার অন্ধকার বন্দিশালায় মাসের পর মাস অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন কালকিনি ও ডাসার উপজেলার দুই যুবক।
জমানো টাকা আর সহায়-সম্বল দালালের হাতে তুলে দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ইলিয়াস হাওলাদার ও ফারুক হাওলাদারের। স্বজনদের আহাজারিতে এখন ভারি হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের বাতাস।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার যুবক ইলিয়াস হাওলাদার (৩০) তিন বছর আগে কাতারে গিয়েছিলেন। সেখানে এক দালালের প্রলোভনে পড়ে গত বছরের আগস্টে অবৈধ পথে লিবিয়া পৌঁছান তিনি। সেখানে এক বন্দিশালায় তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পাচারকারী চক্র।
গত সোমবার (২৩ মার্চ) বন্দিশালাতেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা কালাম হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক কষ্ট করে ২০ লাখ টাকা দিয়েছি, তবু আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।” মা রানু বেগমের এখন একটাই আকুতি, তিনি বিচার চান না, শুধু ছেলের লাশটা যেন দেশে ফিরে আসে।
অন্যদিকে, ডাসার উপজেলার দক্ষিণ নবগ্রামের ফারুক হাওলাদারও (৩৫) একই নিয়তির শিকার হয়েছেন। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করা ফারুক চার মাস আগে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। গত ১৮ মার্চ লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরে তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ফারুকের শাশুড়ি নাজমা বেগম জানান, দালাল লাশ এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, লাশ পাওয়ার পর তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অভিযুক্ত দালাল হাবিব মাস্টার ওরফে হাবিবুর রহমান খন্দকার ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার মাধ্যমে আরও শতাধিক যুবক লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় বর্তমানে আটকে আছেন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী দালালদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।