
ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার এই করুণ পরিণতিতে এখন শোকের সাগরে ভাসছে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের উপকূলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলার দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার মোট ১০ জন যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), সাজিদুর রহমান (৩২), শাহান এহিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪৫) রয়েছেন।
এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) এবং জগন্নাথপুর উপজেলার আরও পাঁচজন যুবক এই মিছিলে যুক্ত হয়েছেন।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় দালালদের প্রলোভনে পড়ে গত রমজানে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন এই যুবকরা। সেখান থেকে গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা।
কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয়হীন অবস্থায় সমুদ্রে ভাসতে থাকায় চরম ক্লান্তি ও অনাহারে তাদের মৃত্যু হয়। বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের নির্দেশে অনেকের মরদেহ মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গ্রিস কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
প্রিয়জনদের হারানোর খবরে সুনামগঞ্জের গ্রামগুলোতে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।