
২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী ৩০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী ৩০টি জাহাজ ভিড়েছে এবং আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে আসা এসব জাহাজের বেশিরভাগই খালাস শেষে ফিরে গেছে। এর মধ্যে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে এলএনজি, এলপিজি এবং গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তি দিচ্ছে। ইরান তাদের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলেও বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ জাহাজ চলাচলে অভয় দেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে স্বস্তি থাকলেও দেশের একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র ৪০ হাজার টন ক্রুড অয়েল মজুত আছে, যা দিয়ে বড়জোর ১০-১২ দিন চলতে পারে। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন তেল বহনকারি একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। এছাড়া আরব আমিরাত থেকে আরও একটি জাহাজের শিডিউল বাতিল করা হয়েছে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশ পরিশোধিত আকারে আসায় আপাতত বড় সংকট নেই কিন্তু ইস্টার্ন রিফাইনারি সচল রাখতে দ্রুত অপরিশোধিত তেলের বিকল্প উৎসের অনুসন্ধান চলছে।