
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের যাচাই–বাছাই শেষ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। এর মধ্যে অধিকাংশ অধ্যাদেশ আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে গণভোট অধ্যাদেশ আর বিল আকারে না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আপত্তি জানিয়েছে।
ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। বিএনপি বলছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার করে গণভোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটি পাসের প্রয়োজন নেই। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অবৈধ হবে না। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াত।
কমিটির বৈঠক থেকে জানা যায়, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এসবের মধ্যে ১৫টি অধ্যাদেশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিরোধী দল।
জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোটের বিষয়টি জাতির সঙ্গে সম্পর্কিত; তাই এটিকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত তারা মানছে না। তাঁর দাবি, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে, সামনে আর কোনো প্রয়োগ নেই—তাই এটিকে বিল আকারে উত্থাপনের প্রয়োজন নেই।
রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
জামায়াতের সদস্য রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের দিকে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি বাতিলের উদ্যোগের বিরুদ্ধেও তারা আপত্তি জানিয়েছেন।
বৈঠকে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়নি, সেগুলো সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। কিছু বিল সরাসরি পাস, কিছু সংশোধিত আকারে এবং কিছু পরে—এমন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।