
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে নাম লেখানো হামজা চৌধুরীর অভিষেকের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে অভিষেকের সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ছিল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। লেস্টার সিটির এই তারকার আগমনে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, গত এক বছরে হামজা তার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।
আগামীকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টি-স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এক বছরের প্রাপ্তি ও আক্ষেপের গল্প শুনিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। গত এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে হামজা খেলেছেন ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মধ্যে ৪টি গোল করে দলের জয়ে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। এই এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে এসেছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সাফল্য।
হামজার মতে, ঘরের মাঠে ২২ বছরের খরা কাটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১-০ গোলে হারানো ছিল তার কাছে গত এক বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। এ ছাড়া এএফসি এশিয়ান কাপের অ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিশালী হংকংয়ের সঙ্গে ড্র করাকেও বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
হামজার করা ৪টি গোলের প্রতিটিই এসেছে দেশের মাটিতে। এর মধ্যে ভুটানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে করা প্রথম গোলটি হামজার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে নান্দনিকতার বিচারে নেপালের বিপক্ষে তার ‘বাইসাইকেল কিক’ থেকে করা গোলটিকে তিনি নিজের অন্যতম প্রিয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সাফল্যের পাশাপাশি আক্ষেপও আছে হামজার। হংকংয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে লিড নিয়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-৪ ব্যবধানে হারার ক্ষত এখনো শুকায়নি তার। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘হংকংয়ের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে হেরে যাওয়াটা ছিল গত এক বছরে আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত।’ এই পরাজয় তাকে এখনো বেশ পোড়ায় বলে জানান তিনি।
নিজের এক বছর নিয়ে বলতে গিয়ে হামজা দেশের সামগ্রিক ফুটবল পরিস্থিতির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নারী ফুটবল দলের এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের ভালো পারফরম্যান্স তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। হামজা মনে করেন, বাংলাদেশের ফুটবল এখন সঠিক পথে আছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও বড় সাফল্য আসবে।
এএফসি এশিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে আগামীকাল সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী। লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামব। ইনশাআল্লাহ আমরাই জিতব।’