
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে ক্যাবরেরার শিষ্যরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে সিঙ্গাপুরের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে দুর্দান্ত শুরু করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বল দখল ও আক্রমণে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে। তবে ম্যাচের ৩১তম মিনিটে রক্ষণভাগের সামান্য ভুলে গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে।
নিজেদের অর্ধ থেকে আসা একটি লম্বা পাসের সুবাদে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডকে আটকাতে ব্যর্থ হলে গোলরক্ষক মিতুল মারমা প্রথম প্রচেষ্টায় শটটি প্রতিহত করেন। কিন্তু ফিরতি বলে জটলার মধ্যে ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে না পারায় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
গোল হজমের সাত মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েছিলেন শেখ মোরসালিন, কিন্তু তার শট সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ সময় ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন ওঠে, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে লড়েছে ক্যাবরেরার শিষ্যরা। আক্রমণভাগের একাধিক প্রচেষ্টার পরও সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মিতুল-হামজাদের।
বাছাই পর্বে ৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের অর্জন ৫ পয়েন্ট। ‘সি’ গ্রুপে চার দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তিনে। শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নাম লিখেছে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপে। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে হংকং। আর ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে ভারত।
এ ম্যাচ জিতলে ফিফা র্যাংকিংয়েও এগিয়ে যেতে পারতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাছাড়া সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এখনো জয় অধরা রয়ে গেছে। সেই আক্ষেপ এবারও দূর হলো না বাংলাদেশের। সর্বশেষ গত জুনে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয়ে ২-১ গোলে হারে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।