
সংসদে বক্তব্য রাখছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “সংবিধানকে যদি আমরা বাইবেল বা গসপেল হিসেবে ধরতাম, তবে বেগম জিয়া কারাগার থেকে বের হতে পারতেন না। তিনি মুক্তি পেয়েছেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জনরায়ের ভিত্তিতে।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে মূলতবি প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ তার বক্তব্যে যারা সংবিধান পরিবর্তন বা ছুড়ে ফেলতে চায়, তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ সময় সরকারি বেঞ্চের (ট্রেজারি বেঞ্চ) অনেক মন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন দিতে দেখা গেছে।
ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনাদের অনেকে দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়া বলেছিলেন—যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। আজ পার্থের সেই বিতর্কিত বক্তব্যে হাততালি দিয়ে আপনারা বেগম জিয়াকে অপমান করেছেন কি না, তা ভেবে দেখবেন।”
পার্থের অবস্থানকে ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “উনি (পার্থ) বলেছেন ৭২-এর সংবিধানের কিছু বিষয় তিনি সম্মান করেন, তার মানে কিছু বিষয় করেন না। অভ্যুত্থানের পর আপনারা সংবিধানের যে অংশ নিজেদের পক্ষে গেছে তা মেনেছেন, আর বিপক্ষে গেলে মানেননি। কখনও সাংবিধানিক আবার কখনও অসাংবিধানিক—এমন দ্বিমুখী অবস্থান চলতে পারে না।”
বর্তমান সরকারের আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “৬ আগস্ট ৬৪ বিধি অনুযায়ী যখন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করা হয়েছিল, তা দেশবাসীকে জানাতে হবে। আমরা তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সেই রায়ের কপিও দেখতে চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার সিদ্ধান্ত ছিল বেগম জিয়াকে আর এক মুহূর্ত কারাগারে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রপতির আদেশ ও জনরায়ের ভিত্তিতেই তিনি মুক্তি পান, সংবিধানের আক্ষরিক নিয়মে নয়। যারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফায়দা লুটতে চান, তাদের কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।