
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়েছে
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানে ইসরায়েল অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন প্রেক্ষাপটে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইসরায়েলি সেনারা মাটিতে অংশ নেবে না—অর্থাৎ এ ধরনের অভিযান পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে।
এদিকে ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। পেন্টাগন নাকি সীমিত আকারের অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছেন কিনা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন সেনারা দেশটিতে প্রবেশ করলে তাদের ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধের মুখে পড়তে হবে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান শুরু করলে তাদের বাহিনীকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে স্থল অভিযান শুরু করা হলে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো কৌশলগত ভুল হতে পারে। রবার্ট পেপে, যিনি নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বলেন—ভিয়েতনাম যুদ্ধই দেখায় কিভাবে আকাশযুদ্ধ ধীরে ধীরে স্থলযুদ্ধে রূপ নেয়। তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে এবং আগামী ১০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরোধী ও আমেরিকা ফার্স্ট মতাদর্শের সমর্থকদের মধ্যে। তাদের দাবি, ইসরায়েল নিজে স্থলযুদ্ধে অংশ না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খারাপভাবে শেষ হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে এবং সামরিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকেও এই সংঘাতের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হতে পারে।