
এটি ৯৭২ সালে এপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর প্রথম মানববাহী চন্দ্র-অভিযান
মানবজাতির চাঁদ অভিযানে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে নাসা। সংস্থাটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে আর্তেমিস–২, যা ১৯৭২ সালে এপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর প্রথম মানববাহী চন্দ্র-অভিযান।
বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২২ ফুট উঁচু স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয় মিশনটি। এতে থাকা চার নভোচারীকে নিয়ে ১০ দিনের যাত্রায় চাঁদের দিকে রওনা দিয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে মহাকাশযানটি মিশনের ষষ্ঠ দিনে, অর্থাৎ প্রায় ৬ এপ্রিল চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এরপর এটি চাঁদের চারপাশ ঘুরে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ অনুসরণ করে আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। পুরো মিশন শেষে ১০ এপ্রিল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের কথা রয়েছে।
এই মিশনে চাঁদে অবতরণ করা হবে না। বরং মহাকাশযান ও নভোচারীদের সক্ষমতা যাচাই করাই এর মূল লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের অবতরণের পথ সুগম হয়।

মিশনের প্রথম দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে থেকে মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে। এরপর ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যানটিকে চাঁদের পথে পাঠানো হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে চলবে চাঁদের পথে যাত্রা, আর পঞ্চম দিনে মহাকাশযান প্রবেশ করবে চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাববলয়ে।
ষষ্ঠ দিনে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৪৫০ থেকে ৯,৬৫০ কিলোমিটার দূর দিয়ে উড়ে যাবে। এরপর সপ্তম থেকে নবম দিনে পৃথিবীতে ফেরার পথে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হবে। দশম দিনে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে মিশনটির সমাপ্তি ঘটবে।
নাসা বলছে, এই মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী মিশন আর্তেমিস–৩-এ নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৭ সালের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আর্তেমিস–২ অভিযানে আছেন:
রিড উইজম্যান (কমান্ডার): অভিজ্ঞ নভোচারী এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর সাবেক কমান্ডার।
ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): চন্দ্র মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী।
ক্রিস্টিনা কোচ (মিশন স্পেশালিস্ট): একটানা দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ডধারী নারী নভোচারী।
জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট): চাঁদে যাত্রার জন্য নির্বাচিত প্রথম কানাডীয় নভোচারী।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প