
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্যাসিবাদকে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, শুধু কোনো শাসকের পতনে ফ্যাসিবাদ শেষ হয় না; বরং জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা থেকেই এর নতুন জন্ম। বিএনপি গণভোটের রায় উপেক্ষা করে আবারও ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে ফিরতে চাইছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা জেলা জামায়াতের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, অতীতে যারা জুলুমের শিকার ছিলেন, আজ তারাই ক্ষমতায় এসে ভুল পথে হাঁটছেন—তাই নতুন করে জুলুম প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গণঅভ্যুত্থান করা যুবসমাজ এখনো সক্রিয় উল্লেখ করে বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ও কঠোর আন্দোলন চলবে; তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন—সরকার ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করলেও একই দিনে ৬৮ শতাংশ মানুষ গণভোটে মত দিয়েছেন। “৫১ ভাগ দেখিয়ে ৬৮ ভাগের রায় অগ্রাহ্য—এটা কোন গণতন্ত্র?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো কাটাছেঁড়া সংবিধান চায় না; জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন চাই। প্রয়োজন হলে আবার রাজপথে নামার ঘোষণাও দেন।
জ্বালানি তেলের সংকটকে তিনি সরকারের ‘লুকোচুরি’ বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন—“সংসদে বলা হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু পাম্পে কিলোমিটারজুড়ে লাইন কেন?”
তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ১১ দল ও জামায়াতের আন্দোলন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত চলবে। সংবিধানের যেসব ধারায় ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে কার্যকর সংস্কারের দাবি জানান তিনি।