
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শুক্রবার রাতে আঘাত হানা ৫.৯ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে। প্রবল কম্পনের ফলে একটি বাড়ি ধসে পড়লে এই নিহতের ঘটনা ঘটে।
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৩ মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭৭ কিলোমিটার গভীরে। এই ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.১ পরিমাপ করেছে। কম্পনের ফলে পাকিস্তান ও ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসিন্দারা দ্রুত ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ইসলামাবাদ ছাড়াও পাঞ্জাবের কিছু এলাকা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানেও তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান একটি দুর্গম ও ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রায়ই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে থাকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের কারণে প্রতি বছর গড়ে ৫৬০ জন মানুষ প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট হওয়া ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী, যাতে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরেও ৬.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন নিহত ও শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল।
শুক্রবার রাতের এই ভূমিকম্পটি আবারও দেশটির ভঙ্গুর অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে আরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।