
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। গতকাল অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও এ জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। রাজশাহীতে গতকাল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের মোট জেলার সংখ্যা ১৮টি। এর সঙ্গে ৯ জেলা যুক্ত হয়ে মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা ছাড়া বাকি যে আট জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে চলমান এ তাপপ্রবাহের প্রভাব কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমক হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, বরিশাল এবং পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
যখন কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তখন সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপপ্রবাহের মাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি হয়ে গেলে তখন তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল দেশের কয়েকটি এলাকায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে।
হঠাৎ তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। তীব্র রোদে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক এবং কৃষক কাজ করতে গিয়ে কাহিল হয়ে পড়ছেন। চুয়াডাঙ্গায় গতকাল কোথাও কোথাও সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। তীব্র গরমে দিশাহারা পুলিশ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের শরবত ও স্যালাইন পান করাতে দেখা গেছে কাউকে কাউকে। ঢাকাতেও গতকাল তাপপ্রবাহের ফলে বিপাকে পড়ে জনমানুষ।