
নাসা তাদের ‘আর্টেমিস-২’ মিশন থেকে পৃথিবীর প্রথম কিছু অভূতপূর্ব ছবি প্রকাশ করে
মানব ইতিহাসের অন্যতম উচ্চাভিলাষী চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের ‘আর্টেমিস-২’ মিশন থেকে পৃথিবীর প্রথম কিছু অভূতপূর্ব ছবি প্রকাশ করেছে। নীল গ্রহের এই মায়াবী দৃশ্যগুলো ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতর থেকে তুলেছেন বর্তমানে চাঁদের পথে থাকা চার নভোচারী।
গত ৩ এপ্রিল প্রকাশিত এই ছবিগুলোতে দেখা যায় বিশাল সাদা মেঘে ঢাকা পৃথিবীর এক চমৎকার রূপ, যা মহাকাশযানের জানালার ওপর দিয়ে ভেসে উঠছে বলে মনে হয়। কোনো কোনো ছবিতে মহাসাগরবেষ্টিত পৃথিবীর পূর্ণ দৃশ্যের পাশাপাশি উজ্জ্বল সবুজ মেরুপ্রভাও ধরা পড়েছে।

ছবিতে দেখা যায় বিশাল সাদা মেঘে ঢাকা পৃথিবীর এক চমৎকার রূপ, যা মহাকাশযানের জানালার ওপর দিয়ে ভেসে উঠছে বলে মনে হয়
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক ছবিগুলো তোলার সময় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে তারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চাঁদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন এবং সোমবার নাগাদ উপগ্রহটির সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অভিযানে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মূল লক্ষ্য চাঁদকে প্রদক্ষিণ করা, যদিও এই মিশনে তারা সরাসরি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবেন না। তবে এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর গভীর মহাকাশে মানুষের প্রত্যাবর্তনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
এই মিশনের অন্যতম অভিযাত্রী ক্রিস্টিনা কচ, যিনি চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মহাকাশ থেকে নিজের গ্রহকে দেখার বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, দিনের আলোয় উজ্জ্বলভাবে জ্বলতে থাকা পৃথিবী কিংবা রাতের আকাশে সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদের পাশে নিজের গ্রহকে দেখার অনুভূতির জন্য কোনো প্রস্তুতিই আসলে যথেষ্ট নয়।

নীল গ্রহের এই মায়াবী দৃশ্যগুলো ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতর থেকে তুলেছেন বর্তমানে চাঁদের পথে থাকা চার নভোচারী
অভিযানের ষষ্ঠ দিনে নভোচারীরা যখন চাঁদের সবচেয়ে কাছে পৌঁছাবেন, তখন মহাকাশযানটি চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৬ হাজার ৪৫০ থেকে ৯ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করবে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে মহাকাশযানটি চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি ব্যবহার করে পুনরায় পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে।
নাসার এই আর্টেমিস-২ মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের স্বপ্ন পূরণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।