
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করার কৌশল থেকে সরে এসে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার দিকে ঝুঁকেছে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের এক মাসের বেশি সময় পরও দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে জানিয়েছে একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন। খবর সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং অর্ধেক ‘কামিকাজে’ ড্রোন রয়েছে। এই মূল্যায়নটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি সরকারের সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করে আসছিল।
তবে পেন্টাগন এবং আঞ্চলিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শুরু থেকে ইরানের পাল্টা হামলার মাত্রা অন্তত অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের আক্রমণ এখন শুরুর দিককার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করার কৌশল থেকে সরে এসে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার দিকে ঝুঁকেছে তারা।
শুক্রবার ইরানের আইআরজিসি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন এফ-ফিফটিন ই ফাইটার জেট ভূপাতিত করে।
এই ঘটনার পর বিমানটির ক্রুদের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বেশিরভাগই অক্ষত রয়েছে। এগুলো হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা দিয়ে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলমান ৩৪ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যকে ‘দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং ব্যাপক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তাদের কৌশলগত লক্ষ্য প্রায় পূরণ হতে চলেছে। তবে তিনি হামলা কখন শেষ হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। বরং আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আরও কঠোর আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইরানের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর অন্তত ২০টি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য রয়েছেন।