
হজমশক্তি বাড়াতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে টক দই হতে পারে সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ
ঘরে ঘরে এখন পেটের সমস্যা লেগেই আছে। বাইরের খোলা খাবার, রাস্তার অস্বাস্থ্যকর পানীয় কিংবা কাটা ফল থেকে ছড়ানো ভাইরাস ‘স্টমাক ফ্লু’র মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে হজমশক্তি বাড়াতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে টক দই বা প্রোবায়োটিক হতে পারে আপনার সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ।
কেন টক দই পেটের জন্য সেরা?
টক দইয়ে রয়েছে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রোবায়োটিক’ নামে পরিচিত। এটি কেবল হজমেই সাহায্য করে না বরং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত দই খেলে গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অতিরিক্ত চিনির শরবতের বদলে দইয়ের তৈরি পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে শীতল ও সতেজ রাখে।
হজমশক্তি বাড়াতে ঘরে তৈরি ৫টি স্বাস্থ্যকর পানীয়
১. অ্যাপেল-সিনামন দই স্মুদি: মিষ্টির বিকল্প হিসেবে আপেলের কুচি, সামান্য দারুচিনির গুঁড়া এবং টক দই ব্লেন্ড করে নিন। আপেলের ফাইবার এবং দারুচিনির বিপাক ক্ষমতা বাড়ানোর গুণ আপনার মেদ কমাতেও সাহায্য করবে।
২. জাফরানি বাদাম লাচ্ছি:অতিথি আপ্যায়নে চিনির বদলে সামান্য মধু, ভেজানো কাঠবাদাম, পেস্তা ও জাফরান মিশিয়ে তৈরি করুন এই পুষ্টিকর লাচ্ছি। এটি শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করতে অতুলনীয়।
৩. শসা-গোলমরিচের কুলার: শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচাতে টক দইয়ের সাথে গ্রেট করা শসা ও এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে তৈরি করুন এই পানীয়। শসায় থাকা প্রচুর পানি আর দইয়ের প্রোবায়োটিক মিলে এটি ডায়েট করা ব্যক্তি ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আদর্শ।

কাঁচা আমের দই-পান্না
৪. কাঁচা আমের দই-পান্না: পোড়ানো বা সেদ্ধ করা কাঁচা আমের পাল্পের সাথে টক দই, ভাজা জিরা গুঁড়া ও সামান্য মধু মিশিয়ে তৈরি করুন এই বিশেষ পানীয়। এটি গরমে শরীরকে ‘সান স্ট্রোক’ থেকে বাঁচায় এবং তাৎক্ষণিক ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
৫. ডিটক্স মসলা ঘোল:টক দইয়ের সাথে ঠাণ্ডা পানি, বিট লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়া এবং সামান্য আদা কুচি মিশিয়ে তৈরি করুন এই ঘোল। আদা এবং জিরা পিত্তরস নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ভারী খাবার খাওয়ার পর দ্রুত হজমে দারুণ কার্যকর।
৬. পুদিনা-দইয়ের শরবত: টক দইয়ের সাথে এক মুঠো টাটকা পুদিনাপাতা, লেবুর রস ও সামান্য বিট লবণ ব্লেন্ড করে নিন। পুদিনার শীতল গুণাগুণ পেটের জ্বালাপোড়া কমায় এবং ছোটদের পেটের সংক্রমণ রোধে এটি অত্যন্ত উপকারী।
উপকারিতা:
দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে
দইয়ে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে
প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে টক দইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এক গ্লাস দইয়ের শরবত কেবল আপনার তৃষ্ণাই মেটাবে না, বরং হজমশক্তি বাড়িয়ে আপনাকে রাখবে সারাদিন সতেজ ও রোগমুক্ত। সুস্থ থাকতে বাইরের কৃত্রিম পানীয়র বদলে প্রকৃতির এই আশীর্বাদকে আপন করে নিন।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প