
নাসার নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, হয়েছিল, এটি সেই চাঁদ নয় যেটা আমরা পৃথিবী থেকে দেখে অভ্যস্ত।’
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের এমন একটি অংশের ছবি ধারণ করেছেন, যা আগে কখনও মানুষ দেখেনি।
নাসা জানিয়েছে, নতুন প্রকাশিত ছবিগুলোর একটি চাঁদের ‘ওরিয়েন্টালে বেসিন’ নামের একটি বিশাল গহ্বরের অংশ দেখায়। প্রায় ৯৬৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এই অঞ্চলটি চাঁদের নিকট ও দূরবর্তী অংশের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা। এতদিন পর্যন্ত এই অংশটি কেবল রোবোটিক যন্ত্রের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হয়েছিল।

নাসার নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, চাঁদের দূরবর্তী অংশের প্রথম দৃশ্য তাদের জন্য ছিল ‘অবিশ্বাস্যরকম চমকপ্রদ’। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল, এটি সেই চাঁদ নয় যেটা আমরা পৃথিবী থেকে দেখে অভ্যস্ত।’
মিশনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত অরিয়ন স্পেসক্রাফট–এর ভেতর থেকেও বেশ কিছু ছবি তোলা হয়েছে, যেখানে মহাকাশে নভোচারীদের দৈনন্দিন জীবনের ঝলক দেখা যায়। শুরুতে পৃথিবীর দৃশ্য বেশি দেখা গেলেও, এখন চাঁদের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ছবির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে চাঁদ।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, নভোচারীরা ইতোমধ্যে চাঁদের পথে অর্ধেকের বেশি পথ অতিক্রম করেছেন এবং শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লুনার ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করবেন।

মিশনে থাকা কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেনকেও একটি ছবিতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি জানালার বাইরে তাকিয়ে চাঁদের দৃশ্য উপভোগ করছেন। ছবিটি তোলার সময় ক্যাপসুলের ভেতরের আলো কমিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে বাইরের দৃশ্য পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আর্টেমিস–১ মিশনের মতোই এই মিশনেও মহাকাশযানের সোলার প্যানেলে স্থাপিত ক্যামেরার মাধ্যমে উচ্চমানের “সেলফি” তোলা হচ্ছে, যেখানে চাঁদ বা পৃথিবীকে পটভূমি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ছবিগুলো শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিএনএন