
এফ-ফিফটিন ই স্ট্রাইক ঈগল
ইরানের অভ্যন্তরে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের মার্কিন সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এক ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, এফ-ফিফটিন ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর এর অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা একদিনেরও বেশি সময় ধরে ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব হলো?
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, আহত অবস্থায় অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ করা হয়নি) প্রায় ৭,০০০ ফুট উচ্চতার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন। পাহাড়ের খাঁজে একা লুকিয়ে ছিলেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা। সেসময় তার সঙ্গে ছিল একটি পিস্তল, একটি যোগাযোগ ডিভাইস এবং একটি ট্র্যাকিং বীকন।
একপর্যায়ে ওই মার্কিন কর্মকর্তা নিজের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তবে ইরানি বাহিনী যেন তাকে শনাক্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি থেমে থেমে যোগাযোগ করছিলেন।
নিখোঁজ সদস্যের সন্ধান নিশ্চিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স ও নেভি সিল সিক্স শুরু করে উদ্ধার অভিযান। তাদের সহায়তায় করার জন্য প্রথমে বিমান থেকে বোমা হামলা চালিয়ে এলাকা নিরাপদ করা হয় এবং এরপর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা তাকে উদ্ধার করেছি! এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান।’
এই অভিযানে শত শত সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাও অংশ নেন। মূল উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়। তারা ইরানি বাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। যেমন নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধারের আগেই সিআইএ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে উভয় ক্রু সদস্যকেই ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে উদ্ধার অভিযানে একাধিক চ্যালেঞ্জও দেখা দেয়। ইরানের একটি দূরবর্তী বিমানঘাঁটির কাছে অপেক্ষমাণ দুটি পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো ইরানের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সেখানেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং নতুন বিমান পাঠানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানাংশ দেখা গেছে। তবে এসব বিমানের মালিকানা বা ধরন নিশ্চিত করা যায়নি। ইরান দাবি করেছে তারা এসব বিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন কর্নেল। বিমানে হামলার সময় তিনি ও পাইলট দুজনই ইজেক্ট করেন। পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় কর্মকর্তার অবস্থান দীর্ঘ সময় অজানা ছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বিশেষ বাহিনী পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এই অভিযানের সময় ইসরায়েলও তাদের কিছু নির্ধারিত হামলা স্থগিত রাখে এবং গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান যেমন মার্কিন সামরিক দক্ষতার একটি বড় উদাহরণ, তেমনি এটি ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক তৎপরতারও ইঙ্গিত দেয়।
সিএনএন
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প