
সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ || ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন এবং রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার এই আদেশ দেন।
এর আগে জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে একজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তার দুই দিনের রিমান্ড এবং কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহসিন উদ্দিন।
কারাগারে রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং যদি জামিনে মুক্তি পান, তবে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাকে জেল হাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ এর ১৮ জুলাই কোটা আন্দোলনের সময় আজিমপুর সরকারি কলোনির ভিতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ চালান। এতে মো. আশরাফুল নামের একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।
মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে সাবেক এই স্পিকারের পক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষ। আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন দুটিই নামঞ্জুর করে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে ধানমন্ডি এলাকা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়।