
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষে মেনে নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে তেহরান। এতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। ইরানি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিকে তাদের ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ঘোষিত যুদ্ধবিরতিতে যোগ দিয়েছে ইসরায়েলও। আলোচনার সময়টাতে দেশটি ইরানে সব ধরনের বিমান হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই ইসরায়েল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ ও সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে।
তবে এই যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের ওপর আরোপ করা হয়েছে। আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়, যাকে চলমান সংকটের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।