
১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা এই জয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, তা তার উদযাপনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারাবাও কাপ ও এফএ কাপের হতাশাজনক পরাজয়ের পর জমে থাকা সব চাপ যেন এক মুহূর্তেই উড়ে গেল ইনজুরি টাইমের নাটকীয় গোলে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কাই হাভার্টজ। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস থেকে হাভার্টজ যখন বল জালে জড়ান, তখন আর্তেতা টাচলাইনের দিকে ছুটে গিয়ে মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। এই জয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে উঠে আসা আর্সেনাল সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
পুরো ম্যাচজুড়ে আর্সেনালকে বেশ চাপের মুখে থাকতে দেখা গেছে। সাকা, এজে ও টিম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে মাঠের লড়াই ছিল বেশ কঠিন। বিশেষ করে প্রাণবন্ত স্পোর্টিং সিপি প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে আর্সেনালের জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন গোলকিপার ডেভিড রায়া।
ম্যানচেস্টার সিটি ও সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকার পর এই ম্যাচে ফিরেই তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। ওসমান ডিওমান্ডের পাস থেকে ম্যাক্সি আরাউহোর নিশ্চিত গোলমুখী শট আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে পাঠিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচিয়ে দেন রায়া। তার এই অতিমানবীয় সেভগুলোই শেষ পর্যন্ত আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।
মিডফিল্ডে ডেকলান রাইস এবং মার্টিন জুবিমেন্ডি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আর্সেনালের আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। মার্টিন ওডেগার্ড কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে স্পোর্টিংয়ের হয়ে ভিক্টর গিয়োকেরেসও খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা সব হিসেব নিকেশ বদলে দেয়। নাটকীয় এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় লেগের আগে বড় মানসিক স্বস্তি ফিরে পেয়েছে গানাররা। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের পর ইউরোপীয় মঞ্চে এটাই আর্সেনালের সেরা সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।