
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার ইসলামাবাদগামী বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আসন্ন বৈঠক থেকে তিনি ইতিবাচক ফল আশা করছেন।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা আলোচনার অপেক্ষায় আছি। আমার মনে হয় ফলাফল ইতিবাচক হতে পারে।’ তিনি জানান, এই বৈঠকের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যদি সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনায় আসে, আমরা অবশ্যই হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যদি তারা আমাদের সঙ্গে খেলা করার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের আলোচক দল তা সহজভাবে নেবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব ভ্যান্সকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইরানের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতি অনাস্থার ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও তারা শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে উইটকফ ও কুশনার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনা চলাকালেই ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সর্বশেষ সংঘাত শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে কেউ থাকবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবাননের বিষয়টি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে দুই পক্ষ এখনও সমঝোতা থেকে অনেক দূরে। তবু দীর্ঘ সংঘাতের পর আলোচনার টেবিলই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ বলে মনে করা হচ্ছে।