
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের সমুদ্রতীরবর্তী একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে প্রদেশের চানার নাথাব উপজেলার একটি বন্ধ রিসোর্ট থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিয়ানমারের এক নারী এবং রিসোর্টের মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থাই পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন বিভাগ ও পর্যটন পুলিশ ওই বন্ধ রিসোর্টটিতে যৌথ অভিযান চালায়। রিসোর্টটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতর থেকে বিদেশি ভাষায় কথাবার্তার শব্দ শুনতে পান কর্মকর্তারা। পরে তল্লাশি চালিয়ে রিসোর্টের একটি পরিত্যক্ত ভবনে লুকানো একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকেই ২১ জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং মিয়ানমারের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।
আটককৃতরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দালালদের প্রায় ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তারা প্রথমে বাংলাদেশ থেকে বিমানে কম্বোডিয়া যান এবং পরে ৪ এপ্রিল সীমান্ত দিয়ে হেঁটে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেন। কয়েকদিন বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার পর বুধবার ভোরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের এই রিসোর্টে এনে রাখা হয়েছিল।

অভিযানের সময় অভিবাসীরা অভিযোগ করেন যে, রিসোর্ট মালিক কৃতিদেত তাদের মোবাইল ফোনগুলো কেড়ে নিয়েছেন। পুলিশ ওই মালিকের কক্ষ তল্লাশি করে দুটি বাক্স থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। যদিও মালিক দাবি করেছেন তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না, তবে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও পালানোয় সহায়তার অভিযোগ এনেছে।
থাইল্যান্ড পুলিশ প্রাথমিকভাবে আটককৃত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ এনেছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের জন্য তাদের সবাইকে খুয়ান মীদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।