
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি বড় একটি অচলাবস্থার কারণ হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ম্যারাথন আলোচনা আপাতত বিরতিতে গেছে। তবে আলোচনার সময়সীমা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে, ফলে আজ রোববারও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ইরানি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, টানা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা বৈঠকের পর দুই পক্ষ এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে খসড়া নথি বিনিময় করছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বৃহত্তর কাঠামো নিয়ে উভয় পক্ষ প্রাথমিকভাবে একমতে পৌঁছেছে। এখন বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন।
ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের প্রতিনিধিদল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এরপর আয়োজক পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে এবং পরবর্তীতে সরাসরি আলোচনার পথ সুগম করে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ মুখোমুখি আলোচনায় বসে। এ সময় ইরান তাদের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবিতে আগের অবস্থানেই অনড় থাকে।
আলোচনা কক্ষ থেকে খুব সীমিত তথ্যই বাইরে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও সামগ্রিকভাবে আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক রয়েছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে “খুব গভীর” আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আলোচনা যেভাবেই শেষ হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, তাদের দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তার জবাবে “কঠোর প্রতিক্রিয়া” জানানো হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির তেফাহতাহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা