
ছবি: সংগৃহীত
অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতের সাত দশকের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
এর আগে আজ সকালে তাঁর মরদেহ লোয়ার পারেলের বাসভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিবাজি পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ফুলে সাজানো গাড়িতে রাখা হয়েছিল তার বড় একটি প্রতিকৃতি, যেখানে ঐতিহ্যবাহী মহারাষ্ট্রীয় ‘নাথ’ পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় এই শিল্পীকে। পথে পথে হাজার হাজার অনুরাগী প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় জমান এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে শ্রদ্ধা জানান।
বিকেল চারটায় শ্মশান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে এবং তাঁর মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কাচের কফিনে রাখা হয়। এ সময় শিল্পীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলেসহ পরিবারের সদস্যরা এবং ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন।

সুরসম্রাজ্ঞীকে শেষ বিদায় জানাতে শিবাজি পার্কে হাজির হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার, অভিনেতা আমির খান, সংগীত পরিচালক এ আর রহমান, জ্যাকি শ্রফ, রিতেশ দেশমুখ, রণবীর সিং, হেলেন এবং তাবুর মতো তারকারা। প্রথিতযশা এই শিল্পীর প্রয়াণে পুরো ভারতজুড়ে এবং বিশ্বের সংগীত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ায় ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজার হাজার গান গেয়ে ভারতীয় সংগীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মভূষণসহ একাধিক সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর চিরবিদায়ে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল, যার অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।