
আটলান্টা এয়ারপোর্ট
২০২৫ সালের বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরে বৈশ্বিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং লম্বা সময় ধরে তালিকায় শীর্ষে বিমানবন্দরটি তার দীর্ঘদিনের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ২০২৬ সালে বিমান ভ্রমণ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বিমানবন্দর সংস্থা এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৯.৮ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৩.৬ শতাংশ বেশি এবং মহামারির আগের ২০১৯ সালের তুলনায় ৭.৩ শতাংশ বেশি।
১৮১টি দেশের ২,২০০টির বেশি বিমানবন্দর নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি জুলাইয়ে তাদের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করবে।

এবারও তালিকার শীর্ষে আছে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আটলান্টায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ২০২৫ সালে প্রায় ১০৬.৩ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে। যদিও এটি বড় সংখ্যা, তবুও ২০২৪ সালের তুলনায় ১.৬ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম।
গত ২৮ বছরের মধ্যে ২৭ বছরই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এই বিমানবন্দরটি। শুধুমাত্র ২০২০ সালে কোভিড মহামারির শুরুতে বিমান চলাচল কমে যাওয়ায় এটি শীর্ষস্থান হারিয়েছিল।
দ্বিতীয় স্থানে টানা তৃতীয়বারের মতো রয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আর এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে টোকিও হানেদা বিমানবন্দর। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য দুটি বিমানবন্দর হলো ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চতুর্থ) এবং সাংহাই পুডং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (পঞ্চম)।
এসিআই-এর মহাপরিচালক জাস্টিন এরবাচ্চি জানান, ‘সব অঞ্চলে আমরা প্রবৃদ্ধি দেখেছি, যা মূলত আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের কারণে বেড়েছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতি এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বড় ধরনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে যাত্রীরা বিকল্প রুট ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়া বেড়েছে।
এরবাচ্চি বলেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিমান সংস্থাগুলোর রুট নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা মানুষের ভ্রমণ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বর্তমানে ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে। এসিআই-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে তুলনামূলক ধীর কিন্তু স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
সিএনএন
‘আশা’ থাকিবেই