
হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরায়েলের দূতদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈরুত থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত হয়নি, কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেই হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, তারা শুধু এই হামলার অবসান চান। তারা প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি কেন কার্যকর হয়নি, যা ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। উভয় পক্ষই বৈঠককে ইতিবাচক বললেও, ইসরায়েল আগে থেকেই জানিয়ে দেয় যে সাম্প্রতিক সংঘাতের যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
এই সংঘাত শুরু হয় ২ মার্চ, যখন হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিক্রিয়ায় গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়।
ইসরায়েল যখন হামলা জোরদার করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে, তখন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ আলোচনার পথকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ থেকে সরিয়ে নিয়ে অঞ্চলটিকে দখলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তরুণ যোদ্ধাদের প্রতিরোধের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি।
হিজবুল্লাহ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চায় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা প্রতিদিনের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না।