
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশছবি: ইউএসএস ফ্লিট ফোর্স
ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অতিরিক্ত ১০ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং আরও কয়েকটি জাহাজে করে প্রায় ৬ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ৪ হাজার ২০০ সদস্য চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে পৌঁছাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এই অভিযানে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামের দুটি রণতরি মোতায়েন রয়েছে, যেগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। নতুন করে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ পৌঁছালে এই অঞ্চলে মার্কিন রণতরির সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে।

এদিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, এই অবরোধ ‘পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর’ করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে ইরানের অর্থনৈতিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, কিছু জাহাজকে এখনও এই প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়, তবে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তারা আশাবাদী। তিনি জানান, আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল আবারও ইসলামাবাদে ফিরে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারবে, অন্যদিকে প্রয়োজনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতিও ধরে রাখছে। উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।